Nature Indian Logo

The Sleepless Sentinel

ঢিলেঢালা সংরক্ষণ :
পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে গণ্ডার চোরাশিকার

স্টাফ রিপোর্টার, নেচার ইন্ডিয়ানঃ সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া এবং গরুমারা অভয়ারণ্য থেকে গত ছয়মাসে ৬টি গন্ডার চোরাশিকারের ঘটনা ঘটেছে। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই চোরাশিকারের ঘটনা খুবই বিরল। কিন্ত শেষ ছয়মাসের এই চোরাশিকারের ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে আরও একবার দেখিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গের এই প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণীটি আভয়ারণ্যেও সুরক্ষিত নয়। সমগ্র বিশ্বে গন্ডারের পাঁচটি উপপ্রজাতির মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত প্রাণীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। নতুন করে ঘটাএই ভয়ঙ্কর চোরাশিকারের ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষনবিদদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন। খবরে প্রকাশ গত বছরের শেষের দিকের ছয়মাসের মধ্যে জলদাপাড়া(ধুপঝোরা) এবং গরুমারা(সিসামারা, তিতলি, কোদালবস্তি, ময়রাডাঙ্গা) থেকে ৬টি একশৃঙ্গ গন্ডারের চোরাশিকার হয়েছে।

সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দুটি স্থান- জলদাপাড়া অভয়ারণ্য এবং গরুমারা জাতীয় উদ্যানকে গন্ডারের বসবাসযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত। তবে জলদাপাড়ায় গন্ডার সংখ্যায় ২০০টির বেশি হলেও গরুমারাতে সেটির সংখ্যা মাত্র ৪০টির কাছাকাছি। খবর পাওয়া যাচ্ছে জলদাপাড়ায় যে সমস্ত জায়গায় (যেমন মালঙ্গি থেকে শুরু করে সিসামারা, ময়রাডাঙ্গা, শিলতোর্সা, হলং, কঞ্জাইনগর, হাঁসিমারা, চিলাপাতা, বানিয়া, কোদালবস্তি, সিসি লাইন প্রভৃতি) গন্ডার সবথেকে বেশি পরিমাণ থাকে সেখানেই চোরাশিকারিরা হানা দিচ্ছে বারবার। যতদূর জানা যাচ্ছে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের গভীর বনাঞ্চলেই এই চোরাশিকার সংঘটিত হচ্ছে। সুতরাং নিবিড় নজরদারি ব্যবস্থা ছাড়া এই চোরাশিকার ঠেকান যাবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যে ব্যবস্থার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বনদপ্তরে সদ্য চালু হওয়া ট্রেজারি ব্যবস্থা এবং নিচুস্তরে বনকর্মীর অভাব। এই মুহুর্তেবনদপ্তরে ২০০০ সংখ্যার ও বেশি শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের করুণ আর্থিক অবস্থার কারণে বনকর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছেনা বনদপ্তরের পক্ষ্যে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী মারা, ধরা কিংবা তাদের দেহাংশ নিয়ে কোনোরকম ব্যবসা করা বেআইনী। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ ২৫,০০০টাকা জরিমানা এবং ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের বিধান আছে। এহেন অপরাধে ২০০৭ সালে রতিরাম শর্মা নামের জনৈক বন্যপ্রাণী ব্যবসায়ীকে প্রথম ৫ বছরের জন্য জেলে পাঠাতে সক্ষম হয় বনদপ্তর।

ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডারকে সংরক্ষণ করতে হলে এখনই বনদপ্তেরর নজরদারি ব্যবস্থকে জরুরি ভিত্তিতে সাজিয়ে তলা দরকার। সেই সঙ্গে চোরাশিকার ঠেকাতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও একান্ত প্রয়োজন যা কিনা যৌথ বনপরিচালন ব্যাবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

২০০২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পাওয়া একশৃঙ্গ গুন্ডারের দেহাংশের একটি ছোট তালিকা দেওয়া হলঃ

  ২০০২-০৩ ২০০৫-০৬ ২০০৮-০৯ ২০০৯-১০
শৃঙ্গ ০৩টি ০১টি ০১টি ০২টি
চর্ম - ১৬কেজি - -
খুর - - ০২টি -
চোয়াল - - ০১টি -

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ শ্রী শমিক দত্ত এই বিষয়ে খুব দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “সত্যিই যদি এই অবস্থা চলতে থাকে এবং এর কোন উন্নতির চেষ্টা না করা হয় তাহলে আমার ভয় আর বছর পাঁচেকের মধ্যেই হয়ত এই একশৃঙ্গ গন্ডারের অস্ত্বিত্ত শুধু মাত্র বই এর পাতাতেই থেকে যাবে”।