Nature Indian Logo

The Sleepless Sentinel

প্রকৃতির ইঙ্গিতঃ
দার্জিলিঙে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিল বাদুড়

এন.আই.এন.বিঃ মানুষ বুঝতে পারেনি কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যওয়া ভূকম্পনের পূর্বাভাস দিয়েছিল এক বিশেষ প্রজাতির বাদুড়। দার্জিলিং জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল যে মানুষের চেয়ে জীবজন্তুদের স্নায়ুতন্ত্র অনেক বেশি কার্যকরী। ঘটনায় প্রকাশ ২৫ তারিখে নেপাল ভূমিকম্পের বহুক্ষণ আগে থেকেই দার্জিলিং-এর আকাশে বেশ কিছু বাদুড়কে অস্বাভাবিক স্বরে ডাকতে ডাকতে উড়তে দেখা গেছে। বাদুড়দের এই ওড়াউড়ি শুরু হয় সাত সকালেই, যা কিনা ভূমিকম্পের সময়কাল থেকে বেশ কয়েক ঘন্টা আগে।

বাদুড় হল মূলতঃ নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। সন্ধ্যে থেকে রাত পর্যন্ত এদের চড়তে দেখা যায়। দিনের আলোতে এরা সাধারণতঃ গাছের কোটরে কিংবা ডালে ঝুলে বিশ্রাম নেয়। সূর্যের আলোতে এরা প্রায় দেখতে পায় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে বিস্ময়করভাবে দিনের আলোতে এই বাদুড়ের অস্বাচ্ছন্দ্য গতিবিধি লক্ষ্য্ করা গেল। উড়ন্ত অবস্থায় একটি বাদুড়কে গাছে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে ছোট্ট তামাং। যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে আবার উড়ে যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গেল দার্জিলিং জেলার পালমাজোয়া অঞ্চলে যা কিনা ভূমিকম্পের এপিসেন্টার থেকে অনেকটা দূরেই অবস্থান করছে। সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন রিম্বিগ অঞ্চলে এই ঘটনা দেখা গেছে। এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেও তা অনুধাবন করতে পারেনি ছোট্টু। নেচার ইন্ডিয়ানকে সে জানায়, “আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোন শিকারী প্রাণী ওদের ডেরায় হানা দিয়েছে। সেই ভয়েতেই ওরা দিনের আলোতেও ছত্রভঙ্গ হয়েছে বাঁচার তাগিদে।”

নেচার ইন্ডিয়ানের তরফে তক্ষুনি অনুমান করা হয় যে এটি হল সেই প্রজাতির বাদুড় যার ইংরেজি পোষাকি নাম হল ব্লানখোর্ড ফ্রুট ব্যাট, বিজ্ঞানভিত্তিক নাম স্ফেরিয়াস ব্লানখোদি। যা কিনা পশ্চিমবঙ্গের গুমটি (নেওড়াভ্যালি সংলগ্ন)এবং পালমাজোয়া অঞ্চলে দেখা যায়। ছোট ছোট পাখি, ফল, ফুল এবং গাছের পাতা খেয়েই এরা জীবন ধারণ করে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম, ভুটান এবং চীন দেশেও এদের সন্ধান মেলে। মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড থেকে এই প্রজাতির বাদুড়ের গল্প পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির পাঁচ নম্বর তালিকায় এদের নাম থাকলেও তা এখনো যতসামান্য তত্ত্বের (ডেটা ডেফিসিট) ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।

‘ইন্টারন্যাশানাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার’-এ শিক্ষা ও সংযোগ আয়োগের সদস্য, শমীক গুপ্ত বলেন, “এই ঘটনা ওই প্রজাতির বাদুড়ের অতিরিক্ত অনুভূতি ক্ষমতাকেই ইঙ্গিত করছে। অবিলম্বে এদের ওপর আরও গভীর গবেষণা চালানো প্রয়োজন। তাতে করে আদপে মানুষেরই লাভ হবে।