Nature Indian Logo

The Sleepless Sentinel

নেচার ইন্ডিয়ানকে আদিবাসীদের প্রতিজ্ঞাঃ
বন্য শূকর ছাড়া শিকার নয়

এন.আই.এন.বি, হুরহুরা,বাঁকুড়াঃ সারা ভারতের আদিবাসী সমাজের ‘শিকার উৎসব’ এক প্রচলিত প্রথা। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলাতেও এই প্রথার চল রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যুগের জৈব বৈচিত্র্য সমস্যা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এতদিন পর্যন্ত জানা ছিল যে, এই শিকার উৎসব হল আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাসের একটি অঙ্গ। ফলত, এই শিকার উৎসব বন্ধ করার স্বপক্ষে উপযুক্ত আইন থাকলেও কোন সরকারই সেই প্রচেষ্টা চালায়নি। এতদিনে ভুল ভাঙালো।

সম্প্রতি ‘নেচার ইন্ডিয়ান’এর বাঁকুড়াসফরে একটি আদিবাসী গ্রামে যেতে হয়। সেখানে শিকার উৎসব বন্ধ করা নিয়ে আলোচনায় আদিবাসী মানুষরা পরিস্কার জানায় যে এটা কোন ধর্মীয় ব্যাপার নয় প্রয়োজনের ভিত্তিতেই বছরের কয়েকটি দিন এই শিকার উৎসব হয় তখন তারা সদলবলে বনে গিয়ে বন্যপ্রাণী শিকার করে থাকে। কারণ বিশ্লেষণ করে তারা আরও বলেন, “দেখুন আপনাদের সমাজের কোর্ট, উকিল, আদালতের ব্যবস্থা আছে। আমাদের শিক্ষা নেই, আর্থিক ক্ষমতা নেই এবং শহরের সঙ্গে যোগাযোগও খুব কম। ফলে আমাদের গ্রামে যখন কোন সমস্যা হয় তখন আমরা নিয়মিত গ্রামসভার মাধ্যমে সেইসব সমস্যার মীমাংসা করে থাকি। গ্রামসভাতেও যে সমস্যাগুলোর সমাধান হয় না সেগুলোকে ফেলে রাখা হয় বাৎসরিক আঞ্চলিক সভার উপরে। ওই সভায় দূর দূরান্ত থেকে প্রচুর আদিবাসী যোগ দেয় ফলে এক বিশাল সংখ্যক মানুষের খাবারের সংগ্রহ করা এক দুরূহ কাজ। আর ঠিক এইখান থেকেই শিকার উৎসবের সুত্রপাত।”

আদিবাসীদের কথা শুনেই নেচার ইন্ডিয়ানের সম্পাদক শমীক গুপ্ত প্রস্তাব দেন – “বেশ তো, এটাই যদি তোমাদের শিকার উৎসবের কারণ হয় বনদপ্তরের কাছে দাবি জানানো হোক বছরের ওই এক দুটো দিন তোমাদের সম্মেলনের পৃষ্টপোষকতা তারা যেন করেন। এই সামান্য খরচ সরকারের কাছে কিছুই নয়। তবে শর্ত একটাই থাকবে যে শিকারের নামে বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী হত্যা করবে না।” সম্পাদকের প্রস্তাব শুনে গ্রামবাসীরা অনুপ্রাণিত হয় এবং তারা সমস্ত গ্রামে এই সমাধান সূত্র ছড়িয়ে দেবে। তারা এও কথা দেয় যে মধ্যবর্তী সময় তারা শিকারে গেলেও কেবলমাত্র বন্যশূকর ছাড়া অন্য কোন প্রজাতির প্রাণী মারবে না।

এই ঘটনা থেকে ‘নেচার ইন্ডিয়ান’ আরও একবার অভিজ্ঞতা পেল যে জনসংযোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই হল জৈববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একমাত্র উপায়। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে নেচার ইন্ডিয়ান সেই বার্তাই দিয়ে আসছে।