Nature Indian Logo

The Sleepless Sentinel

বিশ্বজনীন চোরাবাজারঃ
বিলুপ্তির পথে ভারতীয় তক্ষক

এন.আই.এন.বি, আলিপুরদুয়ারঃ উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গল থেকে কমপক্ষে ১০০ জন তক্ষক ধ’রিয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অবিশ্বাস্য বিনিময় মুল্যের প্রলোভন এই বেআইনি কাজে প্রলুব্ধ করছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানাচ্ছে, সিঙ্গাপুরে একটি জীবন্ত তক্ষকের দাম ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

১২-১৭ ইঞ্চি মাপের একটি তক্ষকের ওজন প্রায় ১০০-৩৫০ গ্রাম। মিলন ঋতুতে উচ্চকন্ঠের ডাক এদের সহজেই খুঁজে পেতে সাহায্য করছে। প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে, আজ থেকে কয়েক বছর আগেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বন এবং বন পার্শ্বস্থ অঞ্চলে অসংখ্য তক্ষকের দেখা মিলত। যা আজ বিরল। বাস্তবিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রকৃতির এই সুন্দর সরীসৃপ প্রজাতিটিকে টিকিয়ে রাখতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন ১৯৭২ এর তালিকা ১ ভুক্ত করা হয়নি এই প্রজাতিটিকে। এমনকি আই.ইউ.সি.এন এর ‘রেড ডেটা বুক’-এও এদের নাম নথিভুক্ত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বনাধিকারিকদের মতে, এটাই হল তক্ষক সংরক্ষণের স্বপক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রধান অন্তরায়।

অন্যদিকে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেহাংশ নিয়ে বিশ্ব জুড়েঅবৈধ ব্যবসা চলছে। এইসব বন্যপ্রাণীর দেহাংশ মূলত ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ওষুধ তৈরির কাজে। যার বেশিরভাগই কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কিন্তু বর্তমানের এই তক্ষক বাজার একেবারেই সেই ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে সর্ম্পকিত নয়। এ এক সুপরিকল্পিত ব্যবসায়িক অভিসন্ধি। যার মুল ভিত্তি হল তথাকথিত বাস্তুশাস্ত্র। এই বাস্তুশাস্ত্রকে সামনে রেখেই বিভিন্ন কু-সংস্কার মানুষের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন গৃহনির্মাণ, গৃহপ্রবেশ, রন্ধনকক্ষ, শয়ন কক্ষ এমনকি শৌচালয়ের অবস্থান নিয়ে নানান কু-সংস্কার ছড়ানো হচ্ছে এবং তার প্রতিকারে এইসব নিরীহ বন্যপ্রাণীদের ব্যবহারের বিধান দেওয়া হচ্ছে। জীবন্ত তক্ষক ঘরে রাখলে কিংবা তার বলিদান দিলে ভিন্ন ভিন্ন সুফল পাওয়া যেতে পারেই বলে স্বঘোষিত শাস্ত্রবিদরা বিধান দিচ্ছে। যার ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক বাজারে জীবন্ত তক্ষকের চাহিদা উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে।

সংরক্ষণবাদীদের মতে, আর কয়েকমাস এই ধারা অব্যাহত থাকলেই ভারতবর্ষ থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তক্ষক বা ‘গেকো’। তাঁদের মতে, এখনই এই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজনীয়।