Nature Indian Logo

The Sleepless Sentinel

সহায় ছিল মাতাল মাতলা
সাগর মোহনায় নীল সবুজের ‘কলস’ দ্বীপ

শমীক গুপ্ত, নেচার ইন্ডিয়ান, কলস দ্বীপঃ এই কদিন আগেই সুন্দরবন ঘুরে গেলাম। ‘লাফিয়ে জঙ্গলে ঢুকল মস্ত রয়াল বেঙ্গাল-বুড়িরড়াবড়ির পথে নেচার ইন্ডিয়ান’ লিখে পাঠকদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ‘শেয়ার’ করেছি। কিন্তু তাতেও নিস্তার নেই। অসংখ্য পাঠক বন্ধুদের ভালবাসা আর আবদার আবার আমাকে সুন্দরবনে নিয়ে এল। বারবার, অসংখ্যবার। আমি প্রেমিক, ‘সুন্দরী’ আমার প্রেমিকা। ওকে সবাই ভালবাসছেন দেখে গর্ব অনুভব করছি। আজ থেকে বহু বছর আগে আমি আমার প্রেমিকাকে দেখেছি, চিনেছি, ভালবেসেছি। তখন ওকে ভালবাসার মানুষের সংখ্যা বড়ই কম ছিল। আজ তারা অগণিত। সুতরাং এখন আর সে কেবল আমার নয়, বিশ্বজনীন প্রেমিকা ‘সুন্দরী’। বয়সের ভার যত বাড়ছে, ততই সে যেন রূপবতী হয়ে উঠেছে অসংখ্য বলিরেখা। বয়স ৭০০০ বছরের আশেপাশে। আমার কাছে তবু সে চিরযৌবনা, তন্বী ‘সুন্দরী’।

আমার পাঠকদের ভালবাসার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আবার এলাম সুন্দরবনে। শেষবার এসেছিলাম সুন্দরবনের পূর্ব প্রান্তে, বুড়িরডাবরি। এবার এলাম পশ্চিমভাগে। ক্যানিং থেকে নতুন মাতলা সেতু পেরিয়ে অটোরিক্সায় ৪৪ কিমি পথ হল ঝরখালি ফেরিঘাট। শিমুলতলা, ভাঙনখালি, কুলতলি, নারায়ণতলা, সোনাখালি, হোগাল সেতু, জয়গোপালপুর, নতুনহাট, শিবগঞ্জ-অসংখ্য ছোট ছোট গ্রাম্য বসতি। খণ্ড খণ্ড মাছের ভেরী, খেজুর গাছ, এক ফসলি ধান জমি ঘেরা খড়ের ছাউনি দেওয়া অসংখ্য মাটির নীড়ের দাওয়াতে ধান শুকোচ্ছিল ‘গাঁয়ের বধূরা’। উজ্জল জাম কালো সুঠামদেহী, সুরমা নস্কর “ন্যাংটা খোকারে কাঁকাল ক্যইরা” জমির আল দিয়ে এগিয়ে আসছিল। অটো রিক্সার গতি তাকে ভাল করে দেখতে দিল না। বাঁশিরাম, চৌরঙ্গি এবং কুমিরমারি হয়ে সে আমাদের একেবারে ঝড়খালি ফেরিঘাটে এনে ফেলল। ফেরিঘাটেরর পাশেই ফরেস্ট অফিস। জনা বিশেক স্থানীয় যুবককে পর্যটন গাইড হিসেবে উপার্জনের ব্যাবস্থা করে দিয়েছে বনদপ্তরের দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনাধিকার। ‘টুরিস্ট’দের সঙ্গে সুন্দরবনে খাঁড়ির আনাচ-কানাচে ঘুরে ঘুরে বাদাবনের গহনতাকে উপলব্ধি করায় ওরা। ‘টুরিস্ট’ পেলে ওদের জীবনের রোজনামচা নিয়ে একটা স্টোরি করার অনুরোধ করল। হ্যাঁ, এককথায় রাজি হয়ে গেলাম। বললাম, ‘তৈরি থেকো’। কাজ কর, অলস থেকো না। কলস ঠেকে ঘুরে আসছি। ।

এম.বি. দিদিভাই বোটের চালক রাধেশ্যাম তৈরি ছিল। সঙ্গে বোট মালিক বিপুল মালি। থুড়ি, আসল মালিক শিমুল মালি। বিপুল ওর ছোটো পোলা। ছোটো কর্তা আড় কি। রাঁধুনি সুরেশ মণ্ডলকেও তুলে নিলাম। নাহ্, কোন হোটেল, গেস্ট হাউসে উঠবো না। বোটে বোটে ঘুরে বেড়িয়ে ‘সুন্দরী’ কে আশটেপৃষ্টে আদর করবো দুটো দিন। নোনা জলে, ঘোলা জলের সাপের মত মুণ্ডু উঁচু করে ভেসে বেড়াব। যাই হোক ডাল-ভাত, ডিম ভাত, ফুটিয়ে ডেবে সুরেশ। ঝড়খালি থেকে রওনা হতে দেরি হয়ে গেল। তখন প্রায় সাড়ে চারটে। রাধেকে বললাম, সোজা বনি কাম্পে গীয়ে নোঙর করো। ও একটু ঘাবড়ে গেল। ঝড়খালি থেকে রওনা হোতে দেরি হয়ে গেল। তখন প্রায় সাড়ে চারটে। রাধাকে বললাম, সোজা বনি ক্যাম্পে গিয়ে নোঙর কর। ও একটু ঘাবড়ে গেল। ঝড়খালি থেকে বনি ক্যাম্প প্রায় তিন ঘণ্টার জলপথ। দেখতে দেখতে অন্ধকার ণেমে এল। টাড় সঙ্গে জাঁকিয়ে কুয়াশা। জল আর স্থলের প্রভেদ করা ভার। আঁধার আঁকড়ে ভেসে চললাম উজানে। কিন্তু একি হল! তিনের জায়গায় চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেল, বনির ‘দেখা নাই’। ব্যাস্, তখনই বিভ্রাট! ন্যুনতম জলের অভাবে হাঁপিয়ে উঠে থমকে গেল বোটের ইঞ্জিন। তলায় চরা! বাঁশ দিয়ে অনেক খোঁচাখুঁচি করেও সেই যন্ত্রযানের মানভঞ্জন করা গেল না। একচুলও নড়ল না আমাদের বোট। জোয়ারের প্রভাব আস্তে তখনও ঘণ্টা দুয়েক বাকি। তাই সই। কিন্তু কোথায় এসে ঠেকলাম? রাধেশ্যাম, বিপুল, সুরেশ কেউই ঠিক ঠাহর করতে পারল না! দূরে কয়েকটা ডিঙি নৌকা থেকে হ্যারিকেনের আলো উঁকি দিচ্ছিল। ওদের কাছে গিয়ে যে যেনে নেব, তারও উপায় নেই। অগত্যা ঘণ্টা দুয়েকের অপেক্ষা। জোয়ারের জল বেড়ে বোট ছাড়তে রাত দশটা বেজে গেল। একটা ডিঙি নৌকার কাছে এগিয়ে গিয়ে জানলাম, ওটা নাকি ‘বেগোড় খাল’। ওখান থেকে লাট খেয়ে, বাঁক নিয়ে বনি পৌঁছলাম রাত বারোটায়। খাওয়া দাওয়া সেরে বোটেই কয়েক ঘন্টা জিরিয়ে নিলাম।

এরপর ভোরের আলো ফুটতেই কুয়াশার সঙ্গে যুঝতে যুঝতে মাতলা ধরে এগিয়ে চললাম কলস দ্বীপের উদ্দেশ্যে। বনবিভাগের হিসাবে এই কলস হল চুলকাটি ব্লকের ৫ নং কম্পার্টমেন্ট। বলতে গেলে, সাগরমুখি সুন্দরবনের প্রায় শেষ প্রান্ত। আজমলমারির বিস্তীর্ণ বাদাবনকে ডানদিকে এগিয়ে চললাম ‘সুন্দরী’র আরও গভীরে। বাঁদিকে প্রশস্থ মাতলা পেরিয়ে ‘টাইগার প্রজেক্ট’ এরিয়া। না, এবার আর ওদিকে যাব না। এবারের গন্তব্য কলস। আজমলমারি পেরিয়ে ধূলিভাসানির পাড়ে প্রশস্থ বালিয়াড়ি দেখতে দেখতে এগোচ্ছিলাম। তার মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে গজিয়ে উঠেছে ধানী ঘাস। আহা, এ তো জল-দানবদের রোদ পোহানর আদর্শ ক্ষেত্র! মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! বালির মধ্যে লেপ্টে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছিল এক মস্ত পোরোসাস। বৈজ্ঞানিক নাম ‘ক্রোকোডাইল পোরোসাস’ বা ‘এসটিউরাইন ক্রোকোডাইল’। বাংলায় বলি, খাঁড়ির কুমির। বোটের মুখ ঘুরিয়ে এগোতেই ঝপাৎ করে জলে নামল। তারপর আমাদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিল। এই ডোবে তো, পরমুহূর্তেই মুখ তুলে চায়। আবার ডুব...আবার ডুব...ভেসে অঠা...ডুব...ডুব...।নিপাত্তা!

মাতলা নদী ধরে সুন্দরবনের ধূলিভাসানি অরণ্যের বুক চিরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছিল। বোট’টা। জঙ্গলের ৩ নং কম্পার্টমেন্ট শুরু হতেই একটা ছোট্ট ডিঙি নৌকা চোখে পড়ল। জঙ্গলের একদম গায়ে নৌকা ভিড়িয়ে শাক-পাতা সেদ্ধ করছিল নর্মদা দাস। বছর পঁয়তাল্লিশের শীর্ণকায় মহিলা। সঙ্গী বলতে তার বড় ছেলে হরিপদ। বাড়ি অম্বিকানগর। দু’রাত্রির পেরিয়ে গেছে। ঘরে ফেরা হয়নি। কাঁকড়ার খোঁজে ভয়াল বাদাবনে খাঁজের আনাচ-কানাচে ছান মারছে। হরিপদ’র বয়স বড়জোর ৩০ হবে। ওর বাবা ভূপতি দাস জলে-জঙ্গলে সংগ্রাম করতে করতে অকাল-বার্ধক্যে পৌঁছেছে।“তার শরীরে ইত ধকল আর সয়নিকো”-নর্মদা বলল। তাই স্বামীর কষ্ট লাঘব করতে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ‘জলে’ নেমেছে শীর্ণকায় নর্মদা! শাক-পাতার পুষ্টিতে মুহুর্মুহু দাঁড় টানতে টানতে কঙ্কালসার চেহারা হয়েছে তার। মাত্র পঁয়তাল্লিশেই স্তনযুগল শুকিয়ে পাঁজরের সঙ্গে মিশে গেছে। ওফ্! কি ভয়াবহ দারিদ্র্য, অপুষ্টি! আর ঠিক তার উল্টোদিকে উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ!

কিন্তু তা বললে কি হবে? পেট মানবে কেন? তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। এখনও সংসারে তারা দু’জন, ছেলে, ছেলের বউ এবং তাদের নাতিনাতনি। সাত জনের পেট চালানো কি মুখের কথা? তবুও ক্লান্ত স্বামী ভূপতিকে আর জলে নামতে দেয় না নর্মদা। ছেলে হরিপদ আর ডিঙি নৌকা নিয়ে কাঁকড়ার খোঁজে বেরিয়ে পড়েছে সোঁদরবনের নদীতে। দু’দিনে সাকল্যে ২ কেজি কাঁকড়া পেয়েছে। তাও ছোট। বড়জোর ২৫০/৩০০ টাকায় বিকোবে। হরিপদ বলল, “গেল অমাবস্যায় পশ্চিম পাড়ে ১৫ কেজি পাইছিলাম।” তাকে থামিয়ে নর্মদা বলল, “তা হইলে হবে কি, বচ্চরের গড়ে মাসে ১৫০০/১৬০০ টাকা আয় হয় গা।”

হ্যাঁ সুন্দরবনের আশপাশে চার-পাঁচশো জেলে পরিবারের গড় মাসিক আয় ১৫০০/২০০০ টাকার বেশি নয়। “ইতে কইরে কী সাত খান পেট ভরে গা?” না নর্মদা, ভরে না। ওকে বলিনি। শুধু ভেবেছিলাম। আমরা তথাকথিত সভ্য সমাজের প্রতিনিধি। থমকে গিয়ে ধমকে বললাম-“অ্যাই চোপ্। সত্যি কথা বলে যে, অনাহারে মরে সে।” আমার কথার ইঙ্গিত বুঝে হরিপদ তার মাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘থামো দিকিনি। জলের প্রাণী মারছ মারো-মরছো মরো। ইনাদের বইল্যা কী হইবে!”

সত্যিই তো, মরলে মরো। বেশি কথা বলি কি লাভ? প্রকৃতিতে প্রবহমান কাল ধরে শুষে নিতে নিতে সে-ও আজকাল কেমন যেন কৃপণ হয়ে গেছে। সুন্দরবনের জলে আজকাল মাছ, কাঁকড়া কিছুই আর মেলে না ভাল। তার ওপর দিনপ্রতি সরকারকে গুনে গুনে পয়সা দিতে হয়। হ্যাঁ, আয় হোক বা না হোক, ‘গর্ভণমেন্ট রেভিনিউ’ ফাঁকি দেওয়া চলবে না! বাদাবনের জলে-জঙ্গলে রসদ কমছে। ভাগীদার বাড়ছে। কি আর করা যাবে? রাজনীতিকরা বলেছেন, ওদের উন্নত করে দেবেন। মূলস্রোত, সভ্যতার সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন। মূলস্রোত, সভ্যতার সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন। উত্তম-চিন্তা। স্বপ্ন! কিন্তু করছেন না। করবেন না। একে একে অর্ধাহারি নর্মদা’দের অকালে দেহরস শুকিয়ে যাবে। নিঃশব্দে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়বে তারা। হয়ত যৌবনের শুরু কিংবা মধ্যভাগে! ওরা কখনই মুখ ফুটে বলতে পারবে না-“ডু ইট নাও। দ্যেন ওনলি উই উইল গিভ ইট ভোট, ইন রিটার্ণ।”

ওদের যৎসামান্য সাহায্য করে আবার এ্যাভিসিনিয়া, সুনারেসিয়া’দের দিকে চোখ ঘোরালাম। গেঁওয়া, কেওড়া, হেতাল পশুর’দের সহাবস্থান দেখতে দেখতে মাতলার ঢেউ ভেঙে সমুদ্রের দিকে এগোচ্ছিলাম। উল্টোদিক থেকে সমুদ্রের জলও আমাদের ঠেলে দিতে চাইছিল। জলের কী বাহারি রঙ! বালিমাটি মেশা হলদেটে থেকে কখনও বা সবজে তো, খানিক দূরেই নীলাভ! ঢেউয়ের প্রাবল্য বাড়ছিল। বোটের পাখায় জল কেটে অসংখ্য অর্ধচন্দ্রাকৃতি বৃত্তের অবয়ব নিচ্ছিল। সেই জলরাশির ওপর সুর্যরশ্মির বিচ্ছুরণ দেখে মনে হচ্ছিল, যেন একটা বিশাল তালপাতার হাত পাখা আমাদের সঙ্গ নিয়েছে। শত-সহস্র অলস ঝরাপাতা। ‘প্রিন্টেড সিফন’ এর মত গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাচ্ছিল। আমরা তখন কলস ছুঁয়েছি।

বাঘের ভয়ে সুবিশাল অঞ্চল জালে ঘেরা। তারই মাঝে ছিমছাম সাজানো গোছান বনদপ্তরের কলস ‘বিট’। জলাশয়ের চারপাশ ঘিরে বিভিন্ন প্রজাতির বাদা উদ্ভিদের সুশৃঙ্খল সমারোহ। ‘সুন্দরী’ আর কাঁকড়ার কৃত্রিম সহাবস্থান। ক্যাসুরিনা ঝাউয়ের ধার দিয়ে আকাশ আর জলের দৃশ্যমানতা ভারি মনোরম। উঁচু ওয়াচ টাওয়ারটার ওপর থেকে অসীম বাদাবনকে দেখে সৃষ্টিকর্তার তারিফ করছিলাম। কী অসামান্য ‘ক্যানভাস’। জলের ধারে লাল, হলুদ কাঁকড়া আর ‘মাড-স্কিপার’গুলো দৌড়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। লাল কাঁকড়াদের ইঞ্জিনিইয়ারিং বুদ্ধি দেখে বিস্মৃত হলাম! নিজের গর্ত থেকে অনতিদূরে কুড়ে কুড়ে মাটি কাটছিল। তারপর সেই মাটির ঢেলাকে বয়ে নিয়ে ছুটে যাচ্ছিল নিজের গর্তের দিকে। ফুড়ুৎ করে ঢুকে পড়ল। আর সেই মাটির টুকরোটা দরজার মত গর্তের মুখে আটকে গেল! আচ্ছা, ওর গর্তের সীমারেখা তো এবড়ো-খেবড়ো? অথচ, সেই মাটির ঢেলাকে বয়ে নিয়ে ছুটে যাচ্ছিল নিজের গর্তের দিকে। ফুড়ুৎ করে ঢুকে পড়ল। আর সেই মাটির টুকরোটা দরজার মত গর্তের মুখে আটকে গেল! আচ্ছা, ওর গর্তের সীমারেখা তো এবড়ো-খেবড়ো? অথচ, সেই মাটির ঢেলাটার এতটুকু অংশ বাড়তি নেই। জানি না, কোন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ওরা ‘সিভিল’ পাশ করে এসেছে। প্রকৃতির এইসব খুঁটিনাটি খামখেয়ালিপনা পর্যবেক্ষণ করতে করতেই কয়েক ঘন্টা কেটে গেল। এবার ফেরার পালা। কেমন যেন একটা লাগছিল; ক্লান্ত, অবসন্ন, অলস-এবার ছাড়তে হবে কলস।