Nature Indian Logo

The Sleepless Sentinel

ইতিহাসে ধানচাষ বর্তমানে
জি.এম.ক্রপের তকমা নিয়ে ধানের বিশ্বজয়

শমীক গুপ্ত, নেচার ইন্ডিয়ানঃ লভিন রাজ্যের ভারতীয়দের কাছে “ভেতো-বাঙালি” উপাধি আমাদের বহু পুরনো। প্রবহমানকাল ধরেই তা চলে আসছে। জানি না কবে এবং কীভাবে এই পদবি আসমুদ্র-হিমাচলে ছড়িয়ে পড়েছে! এহেন উপাধি, পদবি কিংবা তকমার যৌক্তিকতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠতে পারে না। সেকথা হয়ত সকলেই মানবেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেবলমাত্র বাঙালির গায়েই এই চাদর জড়িয়ে দেওয়া হল কেন? ভাত, শুক্ত-চচ্চরি, ডাল, পোস্ত কিংবা মাছের কালিয়া নিঃসন্দেহে আমাদের প্রিয় খাদ্য (যদিও বর্তমান প্রজন্ম তাদের দেহসৌষ্টব রক্ষায় মনযোগী হয়ে তা বিসর্জন দিয়েছে)।কিন্তু ভাত কি শুধু বাঙালির প্রিয় খাদ্য? তা তো নয়! বিহার, ওড়িশা, অসম, ঝাড়খন্ড প্রভৃতি পূর্ব এবং উত্ত্র-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ভাত সমানভাবে জনপ্রিয়। মধ্যভারত এবং দক্ষিণ ভারতেও ভাত পঞ্চাশ শতাংশ জায়গা দখল করে নিয়েছে। তাহলে বাঙালির ভাগ্যে বিশেষ তকমা জুটল কেন? ভাতের আধার হল ধান। তাহলে ধানের উৎপত্তিস্থল কি বাংলাদেশ? বাঙালিই কি তার আবির্স্কতা? কই তা তো নয়! ইতিহাস তো অন্য কথা বলছে।

বিভিন্ন প্রামাণ্য ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে যে ধানচাষের ইতিহাস প্রায় আট থেকে সাড়ে তেরো হাজার বছরের পুরনো। তাও ষে পশ্চিমবাংলা তো দূরের কথা, এমনকি ভারতবর্ষেও নয়। ধানের জন্ম সুদূর চীনদেশে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে সেদেশে পার্ল নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ প্রথম ধানকে খাদ্যশস্য হিসাবে গ্রহণ করে এবং তার চাষ শুরু হয়। যদিও মতান্তরে তা ইয়াং নদীর তীরবর্তী অঞ্চল বলেও আর একদল গবেষক দাবি করে থাকেন। সে যাইহোক, পার্ল কিংবা ইয়াং যে নদীই হোক না কেন তার অবস্থান কিন্তু সেই চীনদেশে। সুতরাং ধানের উৎপত্তিস্থল বা জন্মস্থান নিয়ে বড় একটা সংশয় নেই। অন্যদিকে পৌরাণিক তত্ত্বেও ধানের জন্ম বৃন্তান্ত রয়েছে। সেখানে শ্রী বিষ্ণুকে ধানের সৃষ্টিকর্তা হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। অতঃপর দেবরাজ ইন্দ্র মানুষকে নাকি ধানচাষের পদ্ধতিগত শিক্ষাদান করেন।।

এই বিষয়ে চীনদেশীয় মানুষদের বিশ্বাস ভিন্ন। তারা ধানকে “জীবের দান” বলেই মেনে চলেন। তাদের বিশ্বাস পৃথিবীতে একসময় প্রবল জলোচ্ছ্বাসে প্রকৃতি, গাছপালা সবকিছুই নাকি ধ্বংস হয়ে যায়। স্তব্ধ হয়ে যায় মানুষের খাদ্যসংস্থান। একদল ক্ষুধার্ত, অনাহারি মানুষ মৃত্যু-পরোয়ানা গলায় ঝুলিয়ে শেষ দিনের অপেক্ষায় বসেছিল। এমন সময় একটি কুকুর নাকি ছুটে আসে তাদের দিকে। যার লেজ থেকে ঝুলছিল বেশ কিছু ধানের বীজ। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে মানুষ। কুকুরের লেজ থেকে সেই বীজ নিয়েই শুরু হয় ধানচাষ। এমনটাই বিশ্বাস করেন চীনদেশীয় মানুষ।

যদিও অন্য একদল ঐতিহাসিকদের মতে, আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগে সিন্ধু সভ্যতায় প্রথম ধানচাষ শুরু হয়। সেই আদিম প্রজাতির ধানচাষ আজও আসাম এবং নেপালের কিছু কিছু অঞ্চলে দেখা যায়। যাইহোক, সেসব ঐতিহাসিক বিতর্কের মধ্যে মোটা মাথার বিশ্লেষণ না করাই ভাল। মোটামুটিভাবে চীনদেশই হল ধানের স্রষ্টা। ধরে নিয়েই আলোচনা এগোনো যায়।

প্রাকৃতিক নিয়মে বস্তু তার শীতল অবস্থা থেকে উষ্ণতার দিকে প্রবাহিত হয়। উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীদের বিস্তারের ক্ষেত্রেও তার বড় একটা ব্যতিক্রম হয় না। এরকম ভুরিভুরি উদাহরণ আছে। এখানে তার বিস্তারিত আলোচনা নিস্প্রয়োজন। যাইহোক ধানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল। চীনদেশ থেকে ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ল গোটা পূর্ব, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পশ্চিম এশিয়ায়। পরবর্তী সময়ে ইউরোপ হয়ে আমেরিকা পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ধানের জয়জয়কার। অবশ্য এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হল এর পরিবেশগত এবং মৃত্তিকা গত সহনশীলতা। ভারতের ধানের আগমন ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে এবং খুব সম্ভবত পূর্ব-হিমালয়ের উত্তর-পূর্বের রাজ্য দিয়ে। এক্ষেত্রে পশুরাজ্যের বাঘ এবং ধানের মধ্যে যথেষ্ট মিল আছে। সুদূর সাইবেরিয়া থেকে চীন হয়ে বাঘেরাও ওই পথেই ভারতে প্রবেশ করেছিল। ধানও তাই। ভারতের পাশাপাশি মোটামুটি ওই একই সময়ে বার্মা, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশেও ধানের বিস্তার ঘটেছিল।

পরবর্তী সময়ে ভারতে যে ‘জ্যাপোনিকা’ প্রজাতির ধানের চাষ শুরু হয় তা বস্তুত ওই আদিম ধানেরই বংশদ্ভুত (দক্ষিণ চিন)। গ্রীকদের ভারত অভিযানের কিছুকাল আগেই ভারতে ‘জাপোনিকা’ ধানের চাষ শুরু হয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা অন্তত তাই জানাচ্ছেন। চীনদেশে ধানচাষের ইতিহাসও হাজার চারেক বছরের পুরনো। আয়ুর্বেদে ভারতে প্রথম ধানচাষের উল্লেখ পাওয়া গেল। ধরে নেওয়া যাক, আয়ুর্বেদ রচনা হয়েছে আজ থেকে ৩০০০/৩৫০০ বছর আগে। যদিও উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে ৪০০০ বছর আগেও ধানচাষের প্রচলন ছিল বলে প্রত্ননিদর্শন পাওয়া গেছে। অন্যদিকে চীনদেশেই সেই আদিম ধানের চাষ (জাপোনিকা) আজও নেপাল এবং অসমে চালু আছে। যার ভারতে আগমন ঘটেছিল প্রায় ৩৫০০ বছর আগে। নদীমাতৃক উত্তর ভারতের সমতলভূমিতে প্রধানত সেই চাষের বিস্তার ঘটেছিল। এদিকে চাহিদা, বৃদ্ধি এবং স্বাদের সুবাদে ধান তথা ভাতের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়তেই থাকল। গোটা দেশ তথা বিশ্বে যত ধরনের ধানের চাষ হয় তারা মুলত ‘ওরিজা স্যাটিভা জ্যাপোনিক’ প্রজাতিভূক্ত। বিজ্ঞানী জোহরি এবং হফ-এর গবেষণা ৯২০০৫) থেকে জানা যাচ্ছে যে প্রাগৈতিহাসিক যুগেও ইরানের ‘সুসা’ অঞ্চল এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতেও ‘ওরিজা স্যাটিভা’ চাষের নির্দশন পাওয়া গেছে।

‘জ্যাপোনিকা’ এবং ‘ইন্ডিকা’ হল তারই দুটি উপপ্রজাতি মাত্র। সুস্পষ্টভাবে জানা না গেলেও অনুমান করা যেতে পারে যে, রামায়ণ রচনাকালেও (৪০০০ বছর আগে) ভারতে হয়ত ধানচাষের প্রচলন ছিল। সেই কারণেই বনবাসী রামচন্দ্র ভাই ভরতকে চাষীদের যত্ন নেওয়ার উপদেশ দিয়েছিলেন। যাতে করে তাদের জীবনধারণ নিশ্চিন্ত হতে পারে। রামের নির্দেশে ভরতও কৃষিবিস্তারের কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন। যা হয়ত সম্ভব হয়েছিল ওই ধানের হাত ধরে। মহাভারতেও (প্রায় ৩৪০০ বছর আগে) কৃষি এবং প্রাণীসম্পদ বিস্তারের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই কারণেই হয়ত তৎকালীন সময়ে বড় বড় জলাধার তৈরি করা হয়েছিল। যা ধানচাষের জন্য একান্ত জরুরি। সেচ ব্যবস্থার সংস্কার এবং উন্নয়নের ধারা আজও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যার মূল লক্ষ্য হল অধিক ফলনশীল ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি।

কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হল না। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকল জনসংখ্যা। গোটা বিশ্বজুড়ে। আজ পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৭০০ কোটি। ভারতে ১২০ কোটি। স্বাভাবিকভাবেই খাদ্যশস্যের চাহিদাও ক্রমবর্ধমান। যার মধ্যে অন্যতম হল ধান। কিন্তু চাষযোগ্য জমির নিরিখে তার উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত। তা বাড়বে কি করে? হ্যাঁ, বাড়বে। বাড়াতে হবে। আর তার জন্য জৈবপ্রযুক্তির সাহায্য নিতে হবে। যাতে করে আগাছা,কীট-পতঙ্গ প্রভৃতির ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে ধান তার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। আর তার জন্য চাই আরও উন্নত প্রজাতির ধান। যা একমাত্র সম্ভব ধানের জীনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে। এই বিষয়ে পরে আসছি। তার আগে দেখে নেওয়া যাক সারা বিশ্ব, ভারতবর্ষ তথা আমাদের রাজ্যে ধানের উৎপাদন এবং চাহিদা কতটা।

২০০১ সালে ভারতে ধান হয়েছিল ৯৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন। যা কিনা বিশ্ব উৎপাদনের ২৩.৩৯ শতাংশ। এরপর ২০০৫-এ ধান হল ৯১.৭৯ লক্ষ মেট্রিক টন। যা ছিল বিশ্ব উৎপাদনের ২১.৭ শতাংশ। সেই সময় ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১১১ কোটি। সুতরাং চাহিদা তো বাড়বেই। ২০১১-১২ মরসুমে ধান উৎপন্ন হয় ১০৪.৩২ লক্ষ মেট্রিক টন। যেখানে প্রয়োজন ছিল ৯৪.৫ লক্ষ মেট্রিক টন। অতএব আপাতদৃষ্টিতে উৎপাদন ছিল প্রয়োজনের সামান্য বেশি। ওটুকু কিছুই নয়। কাগুজে হিসেব। পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজারের প্রয়োজন কমিয়ে দেওয়া হয়। অর্ধাহারে থাকে গরীব-গুর্বো। সে যাই হোক না কেন, আদপে ভারতে জনসংখ্যার নীরিখে ধানের উৎপাদন আরও অনেকটাই বাড়ানো প্রয়োজন।

এবার আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দিকে দেখা যাক। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মত এখানে আমন, আউস এবং বোরো এই তিন ধরনের ধান চাষ হয়। এর মধ্যে আমন ধানের চাষ সবচেয়ে বেশি। ৬৮-৭০ শতাংশ। যা মূলত শীতকালে হয়ে থাকে। এরপরই রয়েছে গ্রীষ্মের বোরোচাষ (২৬-২৭ শতাংশ) এবং শরতের আউস (৪-৫ শতাংশ)। ২০০৭-০৮ মরসুমে রাজ্যে প্রায় ৬৩.৭ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধানচাষ হয়েছিল। উৎপন্ন ধানের পরিমাণ ছিল ১৪৭.১৯৫ লক্ষ টন। এরপর ২০০৮-০৯’এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০.৩৭২ লক্ষ টন। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, তারপর থেকেই কিন্তু রাজ্যে ধানের উৎপাদন পড়তে থাকল। ২০০৯-১০’এ ১৪৩.৪০৭ লক্ষ টন এবং ২০১০-১১তে তা আরও কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৩০.৪৫৯ লক্ষ টন! কিন্তু কেন কমলো ধানের উৎপাদন?জমি কমেছে?হ্যাঁ কমেছে। তবে তা নগণ্য। তাহলে কী এমন ঘটল যাতে করে ২০০৯ থেকে এত কমতে থাকল ধানের উৎপাদন? এর উত্তর বেশ জটিল। খানিকটা রাজনৈতিকও বটে। কারণ ২০১১’এর বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে তৎকালীন রাজ্যসরকার বড় বড় হোডিং করে প্রচার করতে শুরু করল “কৃষি আমাদের ভিত্তি আর শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ”। ব্যাস! চাস-বাস মাথায় তুলে চাসিরাও ছুটল জমি বেচতে। এককালীন টাকা পাওয়ার লোভে। সবাই আবার অতটা চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তারা না করল জমি বিক্রি, না করল চাষ। রোদে, জলে শরীরকে ঘষা মাজার ইচ্ছেটাই চলে গেল। তার বদলে খাতা পেন্সিল নিয়ে তারা হিসেব কষতে বসল। কৃষির সর্বনাশ হয়ে গেল। কারণ এ তো কমবয়সী ছেলেমেয়েদের প্রেমের মত ব্যাপার। চলছে চলছে সব ঠিক আছে। তৃতীয় চিন্তা মাথায় এসে গেলেই তাতে ব্যাঘাত ঘটে। তা সে ব্যক্তিই হোক কিংবা অর্থ। আশপাশের সুযোগসন্ধানী মানুষজন তখন তাদের বিভ্রান্তি সুযোগ নেয়। পশ্চিমবঙ্গে ধানের উৎপাদন কমে আসার নেপথ্যে তৎকালীন রাজনীতিকদের বড় অবদান আছে। হেক্টর প্রতি ধানের উৎপাদন ৯০০ কিলোগ্রাম (১৯৪৮-৪৯) থেকে বেড়ে ২৫৭৩ কিলোগ্রামে (২০০৭-০৮) পৌঁছেছিল। তা আবার পড়ল কেন? এর কারণ অনুসন্ধান একান্ত জরুরি। কারণ চাহিদা তো বাড়তেই থাকবে। ফলে উৎপাদন এবং চাহিদার দূরত্ব উত্তরোত্তর বেড়েই চলবে। বাড়বে দারিদ্র, অর্ধাহার, অপুষ্টি এবং সর্বোপরি তৎজনিত হিংসা। জানি না, ২০০৮’এর ওই ক্ষতি কিভাবে ঘুচবে। মানুষের মন নষ্ট হয়ে গেলে তা কি আর জোড়া লাগে? বোধ হয় না। পশ্চিমবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে সেই কালো মেঘ ঘনিয়ে এল কিনা তা কেবল সময়ই বলতে পারবে।

এদিকে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন সংকোচনের ফাঁক দিয়ে ঢুকছে জিনোত্তর বীজ (জে.এম বা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড)। একদিকে প্রলোভন আর অন্যদিকে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বহুজাতিক সংস্থাগুলো। উন্নত মানের অধিক ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধকারী বীজের ডালা সাজিয়ে তারা ভারতের বিশাল বাজার দখল করতে চাইছে। কেন্দ্র সরকারও সাঁড়াশি চাপে পড়ে তা গিলে নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ত পরীক্ষামূলক চাষের ছাড়পত্র পেয়েছে। যদিও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা চলছে। স্থগিতাদেশ আছে। তা সত্ত্বেও কীভাবে যে কৃষিমন্ত্রক ছাড়পত্র দিচ্ছে তা বুঝছি না। সুতরাং আজ নয় কাল জিনোত্তর ধান যে ভারতের কৃষিক্ষেত্রে ছেয়ে ফেলবে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

তবে একমাত্র অধিক ফলনশীলতাই যে জিনোত্তর ধানের বাজার ছেয়ে ফেলার একমাত্র কারণ, তা নয়। এর কতগুলো ভাল দিকও আছে। সেই বিষয়ে আলোচনা করার আগে জানিয়ে রাখি যে, পৃথিবীতে প্রথম জিনোত্তর ধান প্রজাতি হল এল.এল.আর ৬২। এই ধান ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম ছিল। ফলে উৎপাদন বাড়ত অনেকটা। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো এবং কলম্বিয়াতে এই ধানচাষ ছাড়পত্র পেলেও নানান কারণে তার বাণিজ্যিকরণ সম্ভব হয়নি। ২০০৯’এ চীনে একই ধরনের আবার একটি জিনোত্তর ধান ছাড়পত্র পেয়েছিল। সেটিও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। যদিও ১৯৯০ থেকেই নানান ধরনের জি.এম শস্যের উদ্ভাবন শুরু হয়েছিল। যার মধ্যে বেশকিছু শস্য বাজার দখলও করেছিল। ২০১১’এর একটি সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে পৃথিবীর ২৯টি দেশের প্রায় ১৬০ মিলিয়ন হেক্টর কৃষিজমিতে জি.এম শস্যের চাষ হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে ২০১৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪০টি দেশের প্রায় ২০ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে ছড়িয়ে পড়বে। এখন দেখা যাক, কী এই জি.এম ক্রপ?

জি.এম.সি (জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ক্রপ) বা জিনোত্তর শস্য কোনও কৃত্রিম বস্তু নয়। বরং বলা যেতে পারে পুরনো শস্য প্রজাতির সংশোধিত সংস্করণ। যা সম্ভব হয় নির্দিষ্ট কোন প্রজাতির বংশসূত্রে (জিন) আরও উন্নত কোন বংশসূত্র যুক্ত করে বা বাদ দিয়ে। এখন প্রশ্ন হল এই জি.এম শস্য উদ্ভাবনের উদ্দেশ্য কি? এর নানান কারণ আছে। রোগ আক্রমণ প্রতিহত করে শস্য উৎপাদন বাড়ানো যেমন একটা দিক, তারই পাশাপাশি খাদ্যের পুষ্টিগুণ বাড়ানো, খরাপ্রবণ এবং মরু অঞ্চলে শস্য চাষের বিস্তার ঘটানো প্রভৃতি নানান গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। তবে একই শস্যের বিভিন্ন প্রজাতির থেকে সুবিধাজনক জিন নিয়ে এই জি.এম ক্রপ তৈরি হয়ে থাকে। ভিন্ন শস্যের থেকে তা নেওয়ার প্রবণতা এখনও ততটা দেখা যায়নি। যা হলে আক্ষরিক অর্থে তা হয়ত ‘খোদার ওপর খোদকারি’ হয়ে যাবে। প্রকৃতি-বান্ধব হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেই কারণেই জি.এম ক্রপের ওপর নানা রকম বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

ধানের ক্ষেত্রে এর বিশেষ সুবিধা আছে। সারা বিশ্বে প্রায় ২৪ প্রজাতি ধানের অস্তিত্ব আছে এবং সেগুলোর প্রত্যেকটাতেই কিছু ভাল এবং খারাপ জিনের অস্তিত্ব আছে। জি.এম রাইসের উদ্দেশ্যই হল বিভিন্ন প্রজাতির ভাল জিনগুলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আরও উন্নত ধান তৈরি করা।

ধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিস্কারটি হল ‘গোল্ডেন রাইস’। যা মূলত ‘বিটা ক্যারোটিন’- এর ধারক। অন্যদিকে ‘এই বিটা ক্যারোটিন’ হল ভিটামিন ‘এ’-এর উৎস। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ভিটামিন ‘এ’ অল্পতায় ভোগে। বিশেষ করে দারিদ্র্য-অধুষ্যিত দেশগুলিতে। সেদিক থেকে ‘গোল্ডেন রাইস’-এর উদ্ভাবন কৃষি বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী আবিস্কার। তবে, অদ্ভুত ব্যাপার বিশ্বের এত তাবৎ তাবৎ দেশ থাকতে ‘গোল্ডেন রাইস’ গবেষণায় আজ সবচেয়ে এগিয়ে আছে একটি ছোট দেশ। যার নাম ফিলিপিন্স। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ এবং মাটিতে ‘গোল্ডেন রাইস’-এর কার্যকারিতা অদ্ভুতভাবে যাচাই করে চলেছে ওই ছোট্ট দেশের বিজ্ঞানীমহল।

এর পরবর্তী যে জি.এম রাইসের গবেষণা সাড়া ফেলেছে, তা হল সি-৪ রাইস। যার মূল উদ্যোক্তা হল আই.আর.আর.আই বা ইন্টারন্যাশানাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিউট। এর মূল উদ্দেশ্য হল ধান গাছের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করে সুর্যরশ্মিকে সরাসরি দানাশস্যের ভেতর প্রবেশ করানো। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, এই সি-৪ এবং সি-৩ উদ্ভিদের অর্থ হল-সলোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া চলাকালীন ওই নির্দিষ্ট উদ্ভিদের পাতায় প্রতি ধাপে কতগুলি কার্বন পরমাণু জমা হয়। সি-৪ অর্থাৎ ৪টি কার্বন পরমানু এবং সি-৩ অর্থাৎ ৩টি পরমাণু এবং সি-৩ উদ্ভিদের চেয়ে সি-৪ উদ্ভিদের কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ক্ষমতা প্রায় ছ্য় গুণ বেশি। ফলে তার পরিবেশগত গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন ভুট্টা গাছ হল সেই ৪ পরমাণু কার্বনের আধার। অন্যদিকে ধান গাছ হল ৩ পরমাণু কার্বনের আধার। জি.এম.রাইস্কে সি-৪ উদ্ভিদে রূপান্তরিত করার বিষয়ে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। হয়ত আর কিছুদিনের মধ্যেই এই অসাধ্য কাজ তাঁরা সম্পন্ন করে ফেলবেন। যা কিনা আধুনিক উদ্ভিদ বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী সংযোজন বলে স্বীকৃতি পাবে। তবে এখানে একটা কথা জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। জি.এম.ক্রপ যে সমস্ত প্রাচীন প্রজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে-এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ খোঁজখবর করে জানলাম গোটা বিশ্বে যত প্রজাতির ধান আছে তার মাত্র ৫ শতাংশের ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। বাকি প্রজাতিগুলোর স্বকীয়তায় কোনরকম আঘাত আসছে না। আর উন্নয়ন, অগ্রগতি চাইলে ওটুকু ঝুঁকি তো নিতেই হবে।

জি.এম রাইসের পরবর্তী এবং উল্লেখযোগ্য আর একটি গবেষণা হল লৌহ সমৃদ্ধ চাল বা ‘আয়রন-ব্লেড রাইস’। এই কাজে আই.আর.আর.আই ইতিমধ্যে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি মানুষ রক্তাল্পতায় ভোগেন, যার মূল কারণই হল রক্তে লৌহ অনুপাত কম থাকে। ঋতুস্রাবজনিত কারণে মহিলারাই মূলত এর শিকার। যা পরবর্তী সময়ে তাঁদের শিশু সন্তানের মধ্যেও সংক্রামিত হয়ে থাকে। দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী মহিলাদের মধ্যে এই রোগের মারাত্মক প্রার্দুভাব রয়েছে। গোটা বিশ্বেই ‘আয়রণ-ব্লেড’ রাইস হয়ত সেই সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনবে। বাড়বে মানুষের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা জি.এম.রাইস আই.আর-৬৪ এ স্থাপন করা হয়েছিল। যা কিনা ধাতব লৌহ পদার্থের অন্যতম ধারক। প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে, চালের নিজস্ব লৌহধারণ ক্ষমতা আছে। ‘ফেরিটিন’ জিনের সংযোজনে তা অনেকগুণ বেড়ে যাবে বলেই বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন। তবে কোন কিছুতেই থামতে রাজি নয় বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন। আর সেটাই তো স্বাভাবিক। ধান গাছের কান্ড এবং পাতা থেকে লোহাকে বহন করে নিয়ে গিয়ে একেবারে তা চালে পৌঁছে দেবার জন্য তাঁরা আরও একটি জিনের প্রজাতি থেকেই নেওয়া হয়েছে। এতে করে ধান গাছের বিভিন্ন অংশে অবাঞ্ছিতভাবে নষ্ট হওয়া লৌহকণা মানুষের জৈবিক প্রয়োজন মেটাবে। বিশ্ব হবে স্বাস্থ্যজ্জ্বোল-এটাই বিজ্ঞানীদের আশ্বাস।

২০১২’তে আই.আর.আর.আই এবং কলম্বিয়ায় ‘ইন্টারন্যাশানাল সেন্টার ফর ট্রপিক্যাল এগ্রিকালচার’ যৌথভাবে এই গবেষণার সার্থকতা নিশ্চিত করেছে। জাপান এবং তার বাইরেও বিভিন্ন মৃত্তিকা-মন্ডলীতে তা আজ পরীক্ষিত সত্য।

এ বিষয়ে আরও জানা যাচ্ছে, সাবেকি ধানের লৌহকণার উপস্থিতি থাকে প্রতি ১০ লক্ষে মাত্র ৫-৮টি কণা। যাকে ১৩-১৪.৫ করার চেষ্টা চলছে। অনুমান করা হচ্ছে, এই গবেষণা ফলপ্রসূ হলে বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মহিলা এবং শিশুর দেহে লোহিত কণার সমস্যা মিটবে। প্রাথমিকভাবে, ১১-১৩ পিপিএম লক্ষ্যমাত্রায় বিজ্ঞানীরা পৌঁছে গেছেন। বাকি আর মাত্র ২-৩.৫ পিপিএম। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

এছাড়া মরুসহায় ধান উৎপাদনের ওপরও বিজ্ঞানের নজর পড়েছে। যেখানে ধান গাছের প্রধান চাহিদা জলের যোগান প্রায় শূন্য। ভূগর্ভস্থ জলই একমাত্র ভরসা। সেখানে পুষ্টিগুণ বজায় রেখে অধিক ফলনশীল ধান উৎপাদন যথেষ্ট কষ্টকর লক্ষ্য। সেদিকেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। এর ওপর সেই ধানকে আবার মরুভূমি ছাড়াও অন্য অঞ্চলে তার সহনশীলতা দেখাতে হবে। না হলে তার বাণিজ্য হবে না। এই সবদিক মাথায় রেখেই গবেষণা এগিয়ে চলেছে। ফলও মিলেছে। বিজ্ঞানীরা মরুসহায় (ড্রট-র‍্যাজিস্টান্ট) ধানের জন্ম দিয়ে ফেলেছেন। যার কিছু জিন এসেছে অন্যান্য ধান থেকে এবং কয়েকটি জিন অন্য উদ্ভিদ থেকে ছিনিয়ে আনা হয়েছে। এখানে ‘অ্যারোবিডপসিস’ নামে একটা ছোট্ট গুল্ম উদ্ভিদের বিশেষ অবদান আছে বলেই বিজ্ঞানীরা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ‘গ্রিন হাউস’এর মধ্যে সেই ধানের সফলতা প্রমাণিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০১১ এবং ২০১২ তে তা ফিলিপিন্সের কম বৃষ্টিপাত অধ্যুষিত নিম্ন অংশ এবং কলম্বিয়ায় উচ্চ অংশে পরীক্ষামূলক সাফল্য পেয়েছে।

তবে এত বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পরেও জিনোত্তর উদ্ভিদ কিংবা জিনোত্তর জীব উৎপন্ন করতে হলে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিজ্ঞানীদের অবশ্যই ভাবতে হবে। যা না হলে জি.এম বিজ্ঞানের এত বড় ইমারত তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়বে। বিষয়টা খুব ছোট্ট হলেও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যাকে সংক্ষেপে বলা যেতে পারে ‘পরিবেশ’ বা ‘আকর্ষণ’। বিষয়টা একটু খুলে বলি।

প্রত্যেক জিন একটা নির্দিষ্ট গুণসম্পন্ন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণের প্রোটিন উৎপাদন করে থাকে। এটা আমাদের জানা আছে, কোন জিন কোন ধরনের প্রোটিন তৈরি করে এবং কতটা মাত্রায় তাও বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করে ফেলেছেন। যার থেকে বাছা বাছা উপকারি জিনগুলোকে নিয়েই নাড়াচাড়া হচ্ছে। এর জিন ওতে, ওর জিন তাতে দিয়ে আরও উন্নত প্রজাতি তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও একটা সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ধরা যাক, একটা লবণ সহনশীল ধানের প্রজাতি তৈরি করা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই ম্যানগ্রোভ বা বাদা প্রজাতির মধ্যে থেকে উপযুক্ত জিন খুঁজতে হবে। এবার তা হয়ত পাওয়াও গেল। সেই জিন ধানের মধ্যে স্থাপন করা হল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেখানে গিয়ে সেই জিনটি আশানুরূপ কাজ করছে না! সমস্যা সেখানে। কেন এমন হয়?

সমাজ জীবন থেকে একটা ছোট্ট উদাহরণ ধরা যাক। তাহলে বিষয়টা আরও পরিস্কার হবে। ধরা যাক, একজন একনিষ্ট কর্মচারি দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় চাকরিরত। এখানেই তাঁর পরিবার রয়েছে। তাঁর পরিবারের সকলকে খুশি রাখতে তিনি মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করেন। নির্দিষ্ট কাজে তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে। এবার হঠাৎ করে তাঁকে উত্তরবঙ্গে বদলি করে দেওয়া হল। যার জন্য তিনি মানসিকভাবে একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না সেখানে তাঁর জন্য কোন ‘ফ্যামিলি কোয়ার্টার’ বরাদ্দ করা হল না। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাঁকে সেখানে যেতে হল। কিন্তু তাঁর মন পরে রইল কলকাতায় রয়ে যাওয়া পরিবারের দিকে। তাহলে যে একনিষ্টভাবে তিনি এত বছরফ কলকাতায় কাজ করে এসেছেন, উত্তরবঙ্গে গিয়েও কি তিনি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন? উত্তর অবশ্যই ‘না’। কেন না? কারণ তাঁর একনিষ্টভাবে কাজ করার পেছনে যে বস্তুটি অলক্ষ্যে সহায়তা করত, তা হল তাঁর পারিবারিক টান, স্নেহ, মমতা এবং পরিবেশ। একটা ভিন্ন পরিবেশের মধ্যে পড়ে, জীবনের ন্যুনতম বেঁচে থাকার তাগিদকে উপেক্ষা করে তিনি কর্মক্ষেত্রে কখনই তাঁর দক্ষতার ১০০ শতাংশ দিতে পারবেন না।

জিনের ক্ষেত্রে বিষয়টা একইরকম। নির্দিষ্ট কোন জিনের কোন নির্দিষ্ট গুণাগুণ অন্যত্র গিয়ে কখনোই ১০০ ভাগ প্রস্ফুটিত হবে না। আর সেটা হওয়াতে গেলে আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন আছে। কোন ব্যক্তি, প্রাণী কিংবা জিনের মানসিক পরিবেশের যোগান দেওয়া চাড্ডিখানি কথা নয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ‘গোল্ডেন রাইস’ থেকেও সেই পথের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায় এই চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা (জি.এম ক্রপ) যে আগামি দিনে কৃষিক্ষেত্রে সর্বনাশ ডেকে আনবে না-সে নিশ্চয়তা দেবে কে? আর যদি তেমন কোন বিপর্যয় ঘটে, তাহলে গোটা বিশ্বে খাদ্য-সুরক্ষা দেবে কোন শক্তি? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের অজানা। সঙ্গত কারণেই সারা বিশ্বে জি.এম ক্রপের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত হচ্ছে, হবে, বাড়বে। তাদেরই দলের পিছনে রইল এই সামান্য ‘ভেতো বাঙালি’। জি.এম ছাড়াই ‘ধন-ধান্যে ভরে উঠুক আমাদের এই বসুন্ধরা’। আল্লার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বোধহয় লাভ হবে না। আশু সাবধান!