Nature Indian Logo

The Sleepless Sentinel

হেমনগর হয়ে বুড়িরডাবরির পথে ‘নেচার ইন্ডিয়ান’
লাফিয়ে জঙ্গলে ঢুকল মস্ত রয়্যাল বেঙ্গল

শমীক গুপ্ত, নেচার ইন্ডিয়ান, বুড়িরডাবরিঃ কলকাতা থেকে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে ধামাখালি ৮১ কিলোমিটার রাস্তা। ‘হার্ডলি টু-আওয়ার্স জার্নি’। পৌঁছতে পৌঁছতে বিকেল ৫ টা বেজে গেল। নভেম্বরের গোড়াতেই এদিকে বেশ শীতের আমেজ পড়ে গেছে। তাই সুর্যিদেব সাত তাড়াতাড়ি নেমে পড়েছেন। একটা সিফন শাড়ীর মত ক্ষীণ রক্তিম আভা তখনও নদীর কোলে শুয়ে ছিল। কোনক্রমে দিনের শেষ বোট’টা ধরা গেল। দুই সিলিন্ডারের ‘কান্ট্রি বোট’। তাতে স্থানীয় মানুষ, মুরগি, ছাগল আর আমরা। সাঁজের আধো- আঁধারে ভারি মনোরম যাত্রা। গন্তব্য হেমনগর। দুঘন্টার জলপথে সর্দার পাড়া। তারপর মোটর চালিত সাইকেল ভ্যানে ‘যোগেশগজ্ঞ হয়ে ‘হেমনগর’।

চৌকিদার শ্রীকৃষ্ণ’র কাছে খবর নিয়ে জানলাম, হেমনগর হল হিঙ্গলগজ্ঞ ব্লকের যোগেশগজ্ঞ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন একটা ছোট্ট গ্রাম। বড়জোড় হাজার তিনেক মানুষের বাস। অর্থনীতি দুর্বল। এক ফসলি জমিতে ‘আমন’ চাষ প্রধান জীবিকা। আষাঢ়-শ্রাবণে বীজ রোপণ, অগ্রহায়ণে নবান্ন। নোনা জলের দাপটে বাকি ৬ মাস খালি পড়ে থাকে। ভেড়া, ছাগল চাষ করে য দু’পয়সা আয় হত, তা-ও ধুয়ে-মুছে সাফা করে দিয়েছে ২০০৫-এর আয়লা। যদিও শ্রীকৃষ্ণ বলল, আয়লার আগেও নাকি বার পাঁচেক ডুবেছে হেমনগর। রায়মঙ্গলের বাঁকে, জলের তোড়ে বারবার ভেঙে পড়েছে মাটির বাঁধ। নোনা জল ঢুকেছে। মাটিতে মিশেছে। “ও মাটি গ্যেল গা।” ‘নোনা’-র প্রভাব কাটতে ৩-৪ বছর লেগে যায়। তবু মানুষ থাকে। ঘর বাঁধে। স্বপ্ন দেখে। লড়াই করে প্রকৃতির ভ্রুকুটির সঙ্গে। কিন্তু আর পারছে না। তাই তারা বহির্মুখী। কলকাতা, মুম্বাই, মাদ্রাজ-সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে হেমনগর আগত দিন-মজুর। তবু হেমনগর আছে। থাকবে। সুন্দরবন লাগোয়া ছোট্ট একটি গ্রাম।

ফি-বছর বেশ কিছু পর্যটক হেমনগর বেড়াতে আসেন। এই হেমনগরকে কেন্দ্র করেই তারা সুন্দরবনের গভীরে যান। কখনও ঝিঙাখালি, কখনও বুড়িরডাবরি কিংবা খাটুয়াঝুরি। অত্যুৎসাহীরা আরও এগিয়ে দোবাঁকি, সুধন্যখালি এমনকি নেতিধোপানি পর্যন্ত বাদাবনের গহনতায় হারিয়ে যান। জলে-জলে, নোনা জলে, সাপের মত এঁকে বেঁকে বন থেকে বনান্তরে ঘুরে বেড়াতে মন্দ লাগে না। দু’পাশে বাদাবন। শ্বাসমূল। জোয়ার-ভাঁটা। এ্যাভিসিনিয়া, সুনারেশিয়ারা ঝুঁকে পড়ছে জলের দিকে। মাটিশূণ্য কঙ্কালসার বৃক্ষরাজি, তবু বেঁচে আছে। টিকে আছে অনন্য সুন্দর বাদাবন। সামুদ্রিক ঝড়ঝাপটা সামলে বাঁচিয়ে রেখেছে শহর কলকাতাকে।

পরদিন সকাল ৮ টায় বোটে চেপে বসলাম। সাদা আর নীল ঝকঝকে ছোট্ট নতুন ভুটভুটি। অনেক কষ্ট করে বোটটা বানিয়েছে গ্রামেরই যুবক সুব্রত বৈদ্য। বছর ২৫-২৬ বয়স হবে। নিজেই চালায়। ছোট ভাই তপোব্রত বোটের কনট্রাক্টর। দুই ভাইতে মিলে পর্যটকদের মনোরজ্ঞনের জন্য দিনভর ভেসে চলে। এটাই ওদের রুজি-রুটি। হেমনগর থেকে রওনা হলাম বাগনার উদ্দেশ্যে। প্রশস্থ রায়মঙ্গল বহমান। বাঁদিকে বাংলাদেশ। সারি সারি বাংলাদেশী ট্রলার, বিক্ষিপ্তভাবে নদীতে নোঙর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একে একে ওদের পেরিয়ে গেলাম। বাগনা পৌঁছতে মিনিট দশেক লাগল। ওখানে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটা রেজ্ঞ অফিস আছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ঢুকতে হলে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হয়। সেইসব পালা সেরে আমরা রওনা হলাম বুড়ির ডাবরির উদ্দেশ্যে। আস্তে আস্তে শুরু হল গহন বাদাবন। ১৯৮৭ সালে সুন্দরবনকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ আখ্যা দেয় ‘ইউনেস্কো’। জঙ্গলের শুরু থেকেই সেই অলঙ্করণের সার্থকতা উপলদ্ধি করছিলাম। ভুটভুটি এগিয়ে চলল।

ডান হাত বরাবর সমান তালে এগিয়ে চলল বাদাবন। জোয়ারের জল বাড়ছিল। ডুবছিল অসহায় ‘এ্যাভিসিনিয়া’র দল। সারি সারি সাদা কঙ্কাল। না, মানুষের নয়। গাছেদের। তবে এই কঙ্কাল মৃত নয়, জীবিত। অবাধ্য জলরাশি প্রতিদিন তাদের দু’বার করে ডুবিয়ে দেয়। আবার ওরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। পত্রশুণ্য। বেঁচে থাকার লড়াই। ‘স্ট্রাগল ফর এগজিসটেন্স’।এদের পেছনের সারিতেই রয়েছে সতেজ সবুজ বনানি। মাটি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে। জোয়ারের তোড়ে নুইয়ে পড়ছে। গুচ্ছ গুচ্ছ শ্বাসমূল ছড়িয়ে নিঃশ্বাস নেবার অভিনব প্রচেষ্টা। বিবর্তন। গড়ান, গেঁওয়া, গোলপাতা, বাইন, কেওড়া, হেতাল, আরও কত কত বাদা উদ্ভিদ। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, এই সুন্দরবনে জলের সবচেয়ে কাছের প্রজাতিদের বলা হয় ‘ট্রু ম্যানগ্রোভ স্পিসিস্’। লবণাক্ত জলে এদের সহনক্ষমতা মারাত্মক। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী এরা হল ‘এ্যাভিসিনিয়া’ উপ-প্রজাতি। এখনও পর্যন্ত সুন্দরবনে ৬৪টি ‘ট্রু-ম্যানগ্রোভ ধি-গুণ স্পিসিস্ শনাক্ত করা গেছে। এদেরই ঠিক পিছনের সারিতে অর্থা অপেক্ষাকৃত উচু ভুমিতে, কিংবা বলা যেতে পারে অপেক্ষাকৃত কম লবণাক্তটায়, অবস্থান করছে ‘ব্যাক ম্যানগ্রোভ স্পিসিস’। এই ‘ব্যাক ম্যানগ্রোভ’ –দের পিছনে অর্থা তৃতীয় পর্জায়ে অবস্থান করছে ম্যানগ্রোভ ফ্লাওয়ারিং প্ল্যান্ট’। নানারকম বাদাফুল এবং ফলের নামেই পরিচিত। যেমন গেওয়া, হেতাল, হরগোজা, ইত্যাদি। এই হরগজার আবার ওশুধি গুণ মারাত্মক। স্থানীয় লোকেরা কাতা-ফাটায় হরগজার পাতা বেটে লাগায়।

দেখতে দেখতে ঝিলার জঙ্গল পেরিয়ে আমরা আরাবেশির দিকে এগিয়ে চললাম। এখানে বলে রাখা ভাল, এই সম্পূর্ণ বনাঞ্চলটি ছোট ছোট ১০২টি দ্বীপের সমষটি। একটা ছোট দ্বীপপুঞ্জ বলা চলে। এই ঝিলা, আরাবেশি এগুলো সবই একেকটা ছোট ছোট দ্বীপ। সরু সরু উপনদী, শাখানদী কিংবা নালা এদের একে অপরের থেকে পৃথক করে রেখেছে। প্রশাসনিক কাজে সুবিধার জন্য সেই ছোট ছোট দ্বীপ খণ্ডাংশগুলোকে কম্পার্টমেন্ট-এ ভাগ করা গেছে। যেমন, ঝিলা-১,২,৩,৪,৫। আরাবেশি ১৫ প্রভৃতি। গোটা সুন্দরবন অঞ্চলে মোট ১৯টি ব্লক রয়েছে। যার মধ্যে ‘ফরেস্ট ব্লক’ হল ১৫টি এবং কম্পার্টমেন্ট ৭১টি।

যাইহোক, সুন্দর বাদাবনের গহনতাকে উপলব্ধি করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম বুড়িরডাবরির দিকে। ওখানে কালাবানের (বাইন) জঙ্গল দেখলাম। অন্যান্য বাদাপ্রজাতির চেয়ে উচ্চতায় অপেক্ষাকৃত বড় এই কালাবান। হলে হবে কী, নিচে জোয়ার ভাঁটার টানাপোড়েনে মাটি সরে গেছে। ধুয়ে গেছে। দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বেরিয়ে রয়েছে শিকড়গুচ্ছ। মাথার ভারে নুয়ে পড়েছে শত শহস্র কালাবান। একইভাবে, একইসঙ্গে যেন তারা আধশোয়া হয়ে এলিয়ে রয়েছে নদীর বুকে।এই কালাবানের জঙ্গল আবার বাঘেদের আদর্শ শিকার ক্ষেত্র। হোগলা, হেতালের ঝোপে বড় গতর নিয়ে নড়তে পারে না ‘সোদড়বনের বড়েমিয়া’ বাঘ। অপেক্ষাকৃত হাল্কা জঙ্গলে তারা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। শিকার প্রাণীরও অভাব নেই সেখানে। মাটিতে পড়ে থাকা বাইন ফল খেতে হরিনের দল চড়ে বেড়ায়। শ্বাসমূলের বাড়বাড়ন্ত নাই। ফলে চোট, আঘাতের ভয়শূন্য হয়ে পেছন থেকে অসহায় শিকারের উপর ঝাপিয়ে পড়ে দুরন্ত ‘ট্রাইগিস’রা। এইভাবেই ‘সুন্দর বাদাবনের’ খাদ্যশৃঙ্খল ছকে রেখেছেন প্রকৃতিদেবী। ‘ফাইটপ্লাঙ্কটন’, ‘য্যু-প্লাঙ্কটন’ ইত্যাদি দিয়ে নাকি সেই খাদ্যশৃঙ্খলের শুরু। আর সকলের ওপরে রয়েছে বাঘ।

যন্ত্রণার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছিল ডানা মেলা ‘লিটল ইগ্রেট’। ধবধবে দুধসাদা বিহঙ্গ ভুস করে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে খানিক দূরে গিয়ে বসেছিল।ধীর গতির যন্ত্রযান কাছাকাছি পোঁছালেই আবার খানিক দূরে এগিয়ে যাচ্ছিল। এভাবেই বোধ হয় ও অসহায় মনুষ্যকুলকে বিদ্রুপ জানাচ্ছিল। একঝাক ‘রেড থ্রটেড’ চুটকিও মাথার ওপর ভেলকি দেখাচ্ছিল। এখানে আসার আগে শুনেছিলাম, ব্রাহ্মিণী চিল কিংবা ‘হোয়াইট ব্রেস্টেড সি-ঈগলদের দেখা মিলতে পারে। না মেলেনি। কিন্তু তাতে কি? বাকিরাই বা কম কিসে? এই পথ তো মাছরাঙাদের স্বর্গোদ্যান! ‘লেসার পাইড’, ‘হোয়াইট থ্রোটেড’, ‘রুডি’, ‘ব্ল্যাক-ক্যাপড’ – কেউ নিরাশ করেনি। একটা ‘রুডি’ মাছরাঙা তো ডাঙ্গায় কিলবিল করা ‘মাড-স্কিপার’ ধরে কেরামতি দেখাচ্ছিল।

আবার ভুটভুটি। আবার চলা। প্রকৃতির পরম নিঝুমতা যন্ত্রযানের বিকট শব্দে খানখান হয়ে যাচ্ছিল। উপায় নেই। বাস্তবকে সঙ্গে নিয়েই ফিরে চললাম খানেক হেমনগর। মিনিট দশেক এগোতেই দূরে জঙ্গলের ধারে একটা ডিঙি ণৌকা চোখে পড়ল। ওই গভীর অরন্যের গায়ে নৌকা ভিড়িয়ে কী করছে ওরা? ওদের ভয় নেই? প্রায়ই তো কগজে দেখি, বাউলি-মৌলি-জেলেদের বাঘে নিয়েছে। তবু কেন যায় ওরা বাঘের ডেরায়? চলো তো দেখে আসি কি করছে? ভুটভুটির মুখ ঘুরল। ডিঙি নৌকার ছাউনির নীচে তখন রান্না চলছে।। নৌকায় তিনজন মানুষ। মাঝবয়সী পক্ককেশী দীপক বাঊল ওদের ‘হেড’।ওরা আমতলী গ্রামের লোক।হপ্তা খাণেক আগে নৌকা নিয়ে ঘর ছাড়া হয়েছে। বিপদ-বাধা উপেক্ষা করে কাকড়ার খোজে ওরা হাজির হয়েছে বাঘের ডেড়ায়। সাত দিন ধরে। আর নদীণালা চষে তল্লাশি চলছে। জীবিকার খোঁজে এই ঝুকি ওদের জীবনে রজনামচা। বিকল্প নেই। অন্যান্যবার হপ্তা প্রতি ৭০/৮০ কিলো কাঁকড়া ওঠে। এবার পেয়েছে মাত্র ১০/১৫ কিলো। তিনটি পরিবার ওদের মুখ চেয়ে বসে থাকে। কী হবে এতটুকুতে? কী করব বলুন! জলের প্রাণীর কথা তো আর বলা যায় না। - দীপক বাউলি। “বড় ৪০০/৫০০ গ্রাম ওজনের কাঁকড়া ৭০০ টাকা কেজি। তা-ও সাকুল্যে একটাই পেয়েছি। আর সব ছোট ছোট”। নৌকায় মুলি বাশের পাটাতন সরিয়ে সাঁড়াশি দিয়ে বড় কাঁকড়াটাকে বের করে আনল। বিশাল গতর। ততধিক সাঙ্ঘাতিক দাঁড়া। একবার ধরলে আর রক্ষে নেই। দীপক আমাদের সাবধান করল উল্টোদিকের জঙ্গল থেকে নাকি খানিক্ষন আগে বাঘের হুঙ্কার ছাড়ছিল। কী আশ্চর্জ, ওর মুখের কথা শেষ হবার আগেই আমাদের ভুটভুটির ছেলেটি “বাঘ...বাঘ...” করে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দিল। নিমেষের মধ্যে সকলের মুখ শুকিয়ে গেল। হয়ত বুক-ও। সম্বিৎ ফিরতেই দেখলাম, একটা আস্ত জ্যান্ত বাঘ লাফাতে লাফাতে নদীর চরা থেকে জঙ্গলে ঢুকে যাচ্ছে। ঝোপের আড়ালে গিয়ে সে আবার ঘুরে দাড়াল।আমাদের দিকে চেয়ে দেখল। দূরত্ব আর ঝোপঝার থাকার দরুন ভাল ছবি এল না।বাঘ আবার উল্টো দিকে ঘুরে গভীর বনে হারিয়ে গেল। হারিয়ে গেলাম আমরা। কিছুক্ষণের নীরবতা। একে একে বুলি ফুটল আমার স্নগিদের।প্রথম জন শিশুর সরলতায় আমতা আমতা করে নিচু স্বরে জিজ্ঞাসা করল, ওটা বাঘ ছিল? আমার হাসির দমকা এল। কন্ট্রোল করলাম। জিজ্ঞেস করলাম কাঁকড়া খাবে বলছিলে না? “না, স্বাদ মিটেছে” –সে বলল। আসল সত্যটা বুঝিয়ে গেল ওই বাঘ।“বন্যেরা বনে সুন্দর”। আমি বললাম টিক তাই। আসলে কি জান;প্রকৃতির মাঝে এসে লভাতুর হয়ে পড়া অনুচিত কাজ।কী যায় আসে এতটুকু লভ সংবরণ করলে? সে জলের দিকে চেয়ে গান্ধিজিকে স্মরণ করল, “The world is enough for everyman’s greed”. আমি স্তম্ভিত! সালাম সুন্দরবন! সালাম বড়েমিঞা! ভুটভুটি ধেয়ে চলল উজানে।