Nature Indian Logo

The Sleepless Sentinel

ঢিলেঢালা সংরক্ষণ :
কুকুরের কামড়ে লাল পান্ডার মৃত্যু সিঙ্গালীলায়

স্টাফ রিপোর্টার, নেচার ইন্ডিয়ান, দার্জিলিংঃ ভারতের বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীদের মধ্যে অন্যতম হল লাল পান্ডা, ভারতে যার বিস্তার কেবলমাত্র দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার নির্দিষ্ট বনাঞ্চলে। নানান প্রাকৃতিক এবং বাসভূমিধবংস জনিত কারনে এমনিতেই এদের সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই লাল পান্ডাদের সংরক্ষনের জন্য নানান কর্মকান্ড চলছে। এদের জন্যেই ঘোষিত হয়েছে সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান যা কিনা প্রক্ষান্তরে এক সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পকৃতিতে এদের সংরক্ষণ উদ্যোগের পাশাপাশি দার্জিলিং এর পদ্মজানাইডু হিমালয়ান জু তে এদের প্রজননও ঘটানো হচ্ছে যাতে করে প্রকৃতি থেকে কোনোভাবে এই প্রজাতিটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও চিড়িয়াখানা থেকে তাদের নিয়ে আবার ফিরিয়ে দেওয়া যায়। লালা পান্ডা বাঁচানোর উদ্যোগ জারি হয়েছে গোটা দার্জিলিং জেলা এবং জলপাইগুড়ির নেওরাভ্যালি বনাঞ্চলে। রাজ্য বনদপ্তরের ওয়াইল্ড লাইফ-১ ডিভিশন এবং ওয়াইল্ড লাইফ – ২ ডিভিশন যথাক্রমে দার্জিলিং এর সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান এবং জলপাইগুড়ির নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের দায়িত্বে রয়েছে।

এমতাবস্থায় এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্যপ্রাণী প্রজাতির সংরক্ষণে যথেষ্টগাফিলতি দেখা যাচ্ছে বলেই সংশ্লিষ্ট সংরক্ষণবাদীরা মনে করছেন। এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সিঙ্গালিলায় এক লাল পান্ডার অস্বাভাবিক মৃত্যু। ২রা এপ্রিল ২০১৫, দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় চুপিসারে মৃত লাল পান্ডাটির ময়নাতদন্ত করা হল। যদিও সেই তদন্ত রিপোর্ট দেখে আঁতকে উঠছেন সংশ্লিষ্ট মহল। রিপোর্ট অনুযায়ী কদিন আগেই সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের অন্তর্গত ধৌত্রে ব্লকে কুকুরের আক্রমণে বেঘোরে প্রাণ হারায় একটি ফুটফুটে সুন্দর পুরুষ লাল পান্ডা ! প্রশ্ন উঠছে লাল পান্ডা হল মূল শাখাচলী স্তন্যপায়ী প্রাণী। সে কি করে কুকুরের কামড়ে মারা যেতে পারে? প্রকৃতিতে এদের স্বাভাবিক শিকারী প্রাণী হল মেঘচিতা বা ক্লাউডেড লেপার্ড, যারা গাছে উঠেও রেড পান্ডাদের ধরতে কসুর করে না ! কিন্তু তাই বলে দ্বিতীয়ত ওই সুউচ্চ জঙ্গলাকীর্ণ সিঙ্গালিলা বনাঞ্চলে কুকুর যাবেই বা কেন? বুনো কুকুর বা ওয়াইল্ড ডগ কে ইঙ্গিত করা হচ্ছে! এখানেও নানান টেকনিক্যাল প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সব কিছুর পরে মূল যে প্রশ্নটি ঘুরেফিরে আসছে তা হল বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীরা জঙ্গলের মধ্যে এভাবে যদি বেঘোরে প্রাণ হারাতে থাকে তাহলে সুবিশাল বনদপ্তর সংশ্লিষ্ট ডিভিশন অফিস এবং তার একাধিক রেঞ্জ অফিসাররা কতটা দায়িত্বশীল এবং কর্তব্যপরায়ণ তা নতুন করে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য এই সিঙ্গালিলা বনাঞ্চলের টুঙ্গলু, বাঁশবাতি, বিজনবাড়ি, দাবানরোড, রাম্মাম নদী, ঝেপি, কঁকিয়াবঙ, নামলা, লোধমা, রিমধিক, সোমবারিয়া, ভারাং, গৈ্রিবাস প্রভৃতি বিস্তৃত অঞ্চলে এক সময়ে লাল পান্ডাদের অবাধ আধিপত্য ছিল যা আজ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে নানান আর্থসামাজিক এবং প্রকৃতিতে তাদের বাসভূমি ধবংসের কারণে। এখন তারা বিলুপ্তপ্রায়। আগামি এক দশক পরে ভারতের মানচিত্রে লাল পান্ডার অস্তিত্ব থাকবে কিনা নাকি তারা নিজেদের স্থান করে নেবে ইতিহাসের পাতায় – সেই প্রশ্নের উত্তর কেবলমাত্র সময়ই দিতে পারবে।